৭ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জের নিজড়ার ইউপি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আমলনামা বিশ্ব শান্তির বিরল মূহুর্ত এবং একটি জন্ম “শহীদ জিয়া বাংলাদেশ স্বাধীনতার প্রতীক”-জাহিদ এফ সরদার সাদী কমলাপুর স্টেশন ভাঙার অনুমোদন দিলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ভূঞাপুরে চার ভোটারের কব্জি ও আঙুল কেটে ফেলল প্রতিপক্ষ সরকার শীতার্তদের জন্য কিছুই করেনি : রিজভী লক্ষ্মীপুরে ভোটকেন্দ্রের সামনে গোলাগুলি, আহত ১২ “মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে জাহিদ এফ সরদার সাদী’র সৌজন্য সাক্ষাৎ” ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের আঁতাত, ৩ নেতার পদত্যাগ নুসরাত হত্যার নির্দেশদাতার দায় স্বীকার অধ্যক্ষ সিরাজের

চলে গেলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ

dailybanglatimes.com

বিডি অনলাইন রিপোর্ট : সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই (ইন্না লিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাহী রাজিউন) । আজ স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৫ মিনিটে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান । মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৯ বছর । তিনি স্ত্রী , তিন সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন । মাহফুজ উল্লাহর মেয়ে তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

সিনিয়র এ সাংবাদিকের মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক জানিয়েছেন ।

৬৯ বছর বয়সী মাহফুজউল্লাহ গত ২রা এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল ।
স্কয়ারে কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ই এপ্রিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককে নিয়ে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে ।

তিনি হৃদরোগ , কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন । এর আগে ব্যাংককে একবার তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছিল ।

স্পষ্টভাষী মাহফুজ উল্লাহর জন্ম ১৯৫০ সালে নোয়াখালীতে । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন । তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নেন মাহফুজ উল্লাহ । আইয়ুব খানের শাসনামলে তাকে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল । তিনি পরে ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ।

ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজ উল্লাহ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন । বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার ১৯৭২ সালে জন্মলগ্ন থেকেই তিনি জড়িত ছিলেন । বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন তিনি ।

তিনি সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নামে একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন । আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন সক্রিয় পরিবেশবিদ এবং বাংলাদেশে তিনিই পরিবেশ সাংবাদিকতার সূচনা করেন । এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার- এর আন্তর্জাতিক পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বাংলাদেশী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন ।

মাহফুজ উল্লাহ মাঝে চীনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন ।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন তিনি । তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন । এছাড়া টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত দেখা যেতো সাহসী এ সাংবাদিককে ।

বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা মাহফুজ উল্লাহর বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি । তার সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- প্রেসিডেন্ট জিয়া অব বাংলাদেশ : এ পলিটিক্যাল বায়োগ্রাফি, যাদুর লাউ , যে কথা বলতে চাই, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর , পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন : গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১) , উলফা এন্ড দ্য ইনসারজেন্সি ইন আসাম , বেগম খালেদা জিয়া : হার লাইফ হার স্টোরি, স্বাধীনতার প্রথম দশকে বাংলাদেশ ।

আরও পড়ুন