৭ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জের নিজড়ার ইউপি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আমলনামা বিশ্ব শান্তির বিরল মূহুর্ত এবং একটি জন্ম “শহীদ জিয়া বাংলাদেশ স্বাধীনতার প্রতীক”-জাহিদ এফ সরদার সাদী কমলাপুর স্টেশন ভাঙার অনুমোদন দিলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ভূঞাপুরে চার ভোটারের কব্জি ও আঙুল কেটে ফেলল প্রতিপক্ষ সরকার শীতার্তদের জন্য কিছুই করেনি : রিজভী লক্ষ্মীপুরে ভোটকেন্দ্রের সামনে গোলাগুলি, আহত ১২ “মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে জাহিদ এফ সরদার সাদী’র সৌজন্য সাক্ষাৎ” ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের আঁতাত, ৩ নেতার পদত্যাগ নুসরাত হত্যার নির্দেশদাতার দায় স্বীকার অধ্যক্ষ সিরাজের

গোপালগঞ্জের নিজড়ার ইউপি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আমলনামা

dailybanglatimes.com

মিজানুর রহমান, গোপালগঞ্জ থেকে:

গোপালগঞ্জের ১৩ নং পশ্চিম নিজড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় দলের নেতাকর্মীসহ প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতাকর্মীরাও দৌড়ঝাঁপ করছেন। এদের মধ্যে সমাজবিরোধী, আইন বিরোধী কর্মকাণ্ডসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিঙ্গবাজির অভিযোগ রয়েছে । তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা তুলনামূলক সৎ যোগ্য ব্যক্তি তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

স্থানীয় সুত্র মতে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের চেষ্টা করছেন বেশ কয়েকজন । এরমধ্যে সর্দার পাড়ার ৩ জন, মিনা পাড়ার ৩ জন, মধ্যপাড়ার একজন এবং উত্তরপাড়ার ১ জন । এদের মধ্যে বিএনপি’র এক সময়ের নেতারাও রয়েছেন। চেয়ারম্যান পদকে ঘিরে যারা আলোচনায় রয়েছেন তাদের সার্বিক বিষয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরদার পাড়া :

সরদারপাড়া থেকে এবার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ সরদার, মোঃ ইমন সরদার এবং সাইদুর রহমান রাঙ্গা।

জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আজিজ সরদারের চাচা মৃত জয়নাল সরদার স্বাধীনতা বিরোধীদের যে শান্তি কমিটি ছিল তার ইউনিয়ন প্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে আজিজের পরিবার স্থানীয় বিএনপি নেতা এমএইচ খান মঞ্জুর ছত্রছায়ায় থাকে। দীর্ঘদিন যাবৎ এম এইচ খান মঞ্জু রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে পরবর্তীতে আজিজের পরিবার স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা রমজেদ সরদার এবং তিতাস গ্যাসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মিজানুর রহমান ওরফে রুস্তম মিনাকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হন। আজিজের বড় ভাই রবিউল ইসলাম সর্দার তিনি এর আগে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। যদিও রবিউল ইসলাম সরদার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ।কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আশরাফুল সরদার ওরফে চোরাকারবারি হুন্ডি ফুলমিয়া সরদার তার বড় ভাই রবিউলের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। ব্যাপারটি জানতে পারায় রবিউল হতাশায় ভুগছিলেন তা থেকেই তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। রবিউল সরদারের মৃত্যুর পর তার ছোটভাই ফুলমিয়া সরদার তার স্ত্রীকে বিয়ে করে সুখে স্বাচ্ছন্দে সংসার করছেন।

ভাইয়ের মৃত্যুতে এলাকাবাসীর সহানুভূতি এবং নিজের চাতুরতা দিয়ে আজিজ ইতিমধ্যেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকায় গ্যাং কালচার সৃষ্টি করেছেন। যা ‘আইজ্যা বাহিনী’ নামে পরিচিত করোনার মধ্যে সবকিছু নিষিদ্ধ থাকলেও আজিজের নেতৃত্বে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলার আয়োজন করে মিনা বংশের লোকদের উপর বর্বর নির্যাতন চালায়। সহিংসতার মাত্রা এতটাই ছিল যে পুলিশ এসে গুরুতর আহত হয়েছে ।এসবের মূল নেতৃত্বে ছিলেন আজিজ চেয়ারম্যান এবং তার ভাই চোরাকারবারি ফুলমিয়া সরদার। এই আইজ্যা বাহিনীর লোকেরা সম্প্রতি কাঠালবাড়ি এলাকার শাহিদুল ইসলাম সরদার নামে এক কৃষক কে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। অবশ্য এ ঘটনায় আইজ্যা বাহিনীর কাঠালবাড়ি এলাকার প্রধান মো: শামীম সরদার ওরফে সুদো কুটিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বাহিনীর প্রধান আজিজের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে নয়ছয় করে অর্থ আত্মসাৎসহ আরো নানা অভিযোগ রয়েছে। আজিজ চেয়ারম্যান এবারও স্বপদে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন এ কারণে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন।

সাইদুর রহমান রাঙ্গা অত্র ইউনিয়নের বর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান। তাকে নিয়েও আলোচনা রয়েছে। নম্রতা ভদ্রতা দক্ষতা যতগুলো বিশেষণ রয়েছে। নিজড়ার বাসিন্দাদের মতে সবই যেন যায় এই রাঙার সাথে । প্রথমবারের মতো ইউপি সদস্য হিসেবে যেমন ভোটারদের মন জয় করেছেন, তেমনি স্থানীয় যুবলীগের কান্ডারী হিসেবে ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে নিজেকে মেলে ধরছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই আদর্শের সৈনিক। রাঙ্গার ভাই ঢাকার এস এ টিভির প্রভাবশালী সাংবাদিক জাহিদুর রহমান খান। তার সাথে আওয়ামী লীগের ওপর মহলে যোগাযোগ রয়েছে।এসব বিবেচনায় রেখে রাঙ্গাও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের আশায় সরদারপাড়া থেকে আরও একজন আলোচনায় রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পাবেন এই ঘোষণাও এলাকায় দিয়েছেন ইমন সরদার। ইমন সদরের পিতা রমজেদ সরদার । রমজেদ সরদারের পিতা রোকন সরদার একসময় নিজড়া ইউনিয়নের কুখ্যাত চোর ছিলেন। তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা খেয়েছেন এবং স্থানীয় বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন। রোকন সরদারের শেষ বয়সে এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। এলাকাবাসী তাকে ক্ষমা করে ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করে। রোকন সরদারের ছেলে রমজেদ সরদার অগ্রণী ব্যাংকের কর্মচারী হিসেবে নারায়ণগঞ্জে থাকাকালীন জুয়া, যৌন কেলেঙ্কারি আর মদ ছিল তার নিত্যসঙ্গী। নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে গোপালগঞ্জে বদলি হন রমজেদ সরদার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে এলাকার বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে চাকরির কথা বলে টাকা নিয়ে রীতিমতো প্রতারণা করে আসছে এই রমজেদ সরদার। মূলত এলাকার এই অপকর্মে রমজেদের সাথে সহযোগিতায় ছিলেন তিতাস গ্যাসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মিজানুর রহমান মিনা ওরফে রুস্তম মিনা। রুস্তম মিনাও সে সময় নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। রুস্তম মিনার মধ্যেও মদ, নারী জুয়ার আসক্তি রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে মদ খেয়ে মাতলামি করার দায়ে তিতাসের কর্মচারী বরিশালের গৌরনদী এলাকার রতন নামে একজন রুস্তম মিনাকে থাপ্পর দিয়েছিলেন। গত দুই বছর যাবত রমজেদ সরদার এলাকাছাড়া এবং একাধিক প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা প্রতারণা করেছে এই রমজেদ সরদার।

রমজেদ সরদারের ছেলে ইমন সরদার সম্প্রতি এলাকায় নিজেকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং দল থেকে মনোনয়ন পাবে এই নিশ্চয়তা এলাকাবাসীর কাছে দিয়েছে। পিতার মতো কম যাননি পুত্র ইমন সরদার। বাবার গুণধর এই পুত্রের মধ্যেও নারী বাজি, মাদকাসক্তি রয়েছে। এই ইমন সরদার পাশের বাড়ির প্রবাসী নুর ইসলাম মিনার মেয়েকে রীতিমতো উত্ত্যক্ত করতো। ইমনের কারণে নুর ইসলাম মিনার মেয়ের সংসার ভেঙে গেছে। ইমন সরদার এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন। তার গ্যাংয়ে অন্তত কুড়ি জন সদস্য রয়েছে।

মিনাপাড়া:

মিনাপাড়া থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন এমডি আহমেদ আলী ধলু মিনা, দ্বীন ইসলাম মিনা এবং রাহিদুল ইসলাম কচি মিনা।

এমডি আহমেদ আলী ধলু মিনা বেশ কয়েকবার তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হতে পারেন নি। এবারও চেষ্টা করছেন। ধলু মিনা ও এক সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা এম এইচ খান মঞ্জুর ক্যাডার ছিলেন।১৯৮৬ সালে রামদিয়া এসকে সরকারি কলেজের তৎকালীন ছাত্রলীগের ভিপি আকবর হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত। এই হত্যাকাণ্ডের পর ধলু পালিয়ে চলে যান সৌদি আরবে। দীর্ঘদিন প্রবাস শেষে দেশে ফিরেন ।পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৎকালীন সভাপতি মোল্লা আবু কাওসারের আনুগত্য স্বীকার করায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হন। প্রায় বিশ বছর ধরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে আছেন। এবারও চেষ্টা করছেন চেয়ারম্যান পদে নিজেকে বসানোর জন্য। ধলু মিনার এলাকায় ভোট ব্যাংক রয়েছে, পাশাপাশি লিঙ্গবাজ, জুয়ারি হিসেবে এলাকায় তার বেশ পরিচিতি রয়েছে। মনোনয়ন লাভের জন্য ধলু মিনা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কে আর্থিক সুবিধা সহ নানান সহায়তা করে যাচ্ছেন বলে ধলুর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি।

স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ দীন ইসলাম মিনা কে নিয়েও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আলোচনা চলছে। এই দ্বীন ইসলাম মিনাও একসময় বিএনপি এম এইচ খান মঞ্জুর ক্যাডার ছিলেন। বিএনপি সমর্থিত তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা মিনা মুকুলের সময়ে দ্বীন ইসলাম সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে কম মূল্যে তাদের চাল গম কিনে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতেন। সময়ের স্রোতে তিনি এখন যুব লীগ নেতা এবং ঠিকাদার বনে গেছেন। প্রবাসীদের স্ত্রীদের ব্ল্যাকমেল করে লিঙ্গানন্দের অভিযোগ রয়েছে দ্বীন ইসলাম মিনা কে ঘিরে । পাশাপাশি তার সৃষ্টি বাইড়্যা বাহিনী র সদস্যরা অন্যের জমি দখল, চাপ প্রয়োগ করে নামমাত্র মূল্যে দরিদ্র অসহায় মানুষের জমি দখল করা দ্বীন ইসলামের নিয়মিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কবরস্থানের গাছ গোপনে বাগিয়ে নিয়ে তার বাড়ির ফার্নিচার তৈরি করেছেন।

ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাহিদুল ইসলাম কচি মিনা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। তার পিতা তিতাস গ্যাস সংস্থার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মিজানুর রহমান ওরফে কোটিপতি রুস্তম মিনা। কচি মিনার বড় ভাই রাজ মিনা বখাটে মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। সাতবাড়ি এলাকার ইবাদত আলী খানের মেয়ে সালমা, হিন্দু অধ্যুষিত ছুয়ানীপাড়া দুয়ানী পাড়ার জীবন নষ্ট করেছেন তিনি। কচির ছোট ভাই রিমন মিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় লেখাপড়া করলেও ইয়াবা আসক্ত। দুই ভাইয়ের মত কচি এসবে আসক্ত না হলেও ঘুমের ট্যাবলেটের প্রতি তার বেশ আসক্তি রয়েছে। গ্রামে নিজেকে জাহির করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে কচি। সেও ইউপি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের আশায় দৌড়ঝাঁপ করছেন। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোল্লা আবু কাওসাররের আত্মীয় হিসেবে তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে এলাকার মানুষের কাছে বলে বেড়ান।

মধ্যপাড়া:

চেয়ারম্যান পদে আরেকজনের নাম জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছেন তিনি এর আগেও চেষ্টা করেছেন কিন্তু সফল হতে পারেননি ।তিনি হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নব্য আওয়ামী লীগ নেতা সানোয়ার হোসেন মিলন। ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে পরিবারের আর্থিক উন্নতি ঘটাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান সানোয়ার হোসেন মিলন। এর কিছুদিন পর সৌদি আরবে লোক পাঠানোর নাম করে আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন এবং অনেকের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে তারপর চম্পট দেন। সানোয়ার মিলনের এই প্রতারণার কারণে তার বাবা সহ পুরো পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। একটা সময় সানোয়ার গ্রাম থেকে বেশ কয়েকজনকে সৌদি আরবে কাজের ব্যবস্থা করে দেন তারপর থেকেই গ্রামের চেয়ারম্যান পদে তাকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে যদিও এখন পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন পাননি। তবে নিজে যেহেতু এখন উপজেলা আওয়ামী লীগের পদে রয়েছেন এবং স্থানীয় নেতাদের সাথে তার সখ্যতা চমৎকার হয়েছে সব মিলিয়ে তিনিও আশাবাদী যে মনোনয়ন পাবেন দলের। সানোয়ার হোসেন মিলনের একসময় বিএনপি নেতা এম এইচ খান মঞ্জুর অনুসারী ছিলেন। এলাকায় সানোয়ার বলে থাকেন যে জেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতা তার পকেটে।

উত্তর পাড়া

মোহাম্মদ মান্নান নামে একজন রয়েছেন চেয়ারম্যান পদে আলোচনায়। ৯০ এর দশকে ঢাকা যশোর সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্যাবলেট খাইয়ে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের অজ্ঞান করে সর্বশান্ত করত। মান্নানের সহযোগী ছিলেন ফিরোজ, হুমায়ুন। পরবর্তীতে এলাকায় ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন মান্নান তার ছেলে মেহেদী উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতার ঘনিষ্ঠ সহচর। মন্নান ও তার ছেলেকে দিয়ে চেষ্টা করছেন মনোনয়ন লাভের।

নিজড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ এখলাছ উদ্দিন মোল্লা বলেন, করোনা যেমন আমাদের নতুন পৃথিবী দিয়েছে, তেমনি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আমাদের নতুনত্ব থাকবে। রাজাকার যারা গ্যাং কালচার সৃষ্টি করেছে তাদের জায়গা আওয়ামী লীগে কখনোই হবে না।

মানবাধিকারকর্মী মো: এনাম আহমেদ মোল্লা বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য চোর বাটপার লিঙ্গবাজ, জুয়াড়ি, চোরাকারবারি স্বাধীনতা বিরোধী দোসরদের ইউনিয়ন পরিষদের মতন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা উচিত হবে না।

ইউনিয়ন কৃষকলীগ সভাপতি মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান মিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটা স্বাধীন ভূখণ্ড দিয়েছেন পাকিস্তানি হানাদার দের কাছ থেকে ।আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করেছেন তারই সুযোগ্য উত্তরাধিকারী গণতন্ত্রের মানস কন্যা, মানবতার মাতা, ম্যাজিকাল আয়রন লেডি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে । আর আমাদের এলাকার উন্নয়ন উন্নতির জন্য রয়েছেন গোপালগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার জননেতা ডক্টর শেখ ফজলুল করিম সেলিম ভাই। আগামী দিনে নিজড়া ইউনিয়ন হবে বাংলাদেশের একটি মডেল ইউনিয়ন। এখানে সমাজবিরোধীদের কখনো মেনে নেয়া হবে না। সৎ যোগ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তিদের দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালিত হবে।

আরও পড়ুন